
টিকটক ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর সন্দেহ থেকেই রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলামকে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আর এ কাজে খুলনা থেকে খুনি ভাড়া করে আনা হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানার পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গোলাম রসুল শিহাব (২১), রাফিন শেখ (২০), শাহারিয়ার নাজিম জয় (২০), সাগর ফকির (২৬) ও সালাউদ্দিন সাগর ওরফে সাকা (৩৮)।
ডিএমপি জানায়, ১৫ মার্চ রাত সাড়ে আটটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পশ্চিম দিকে শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাকিবুল ইসলাম তাঁর মোটরসাইকেলটি থামান। এর পরপরই অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয় যুবক তাঁর ওপর হামলা চালান। তাঁরা পিস্তল দিয়ে পেছন থেকে একাধিক গুলি করেন। এরপর রাকিবুল রক্তাক্ত অবস্থায় নিচে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর বুক, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারীরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
মামলার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য থেকে পুলিশ বলছে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও কনটেন্ট বানাতেন রাকিব। তাঁর সঙ্গে জান্নাত মুন নামের এক তরুণীর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক হয়েছে—এমন সন্দেহ থেকে মুনের স্বামী ‘সাজিদের পরিকল্পনাতেই’ এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সবাই ‘ভাড়াটে খুনি’।
১৫ মার্চ রাতে শাহবাগ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতার সহায়তায় গোলাম রসুল শিহাবকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, গত সোমবার খুলনার লবণচরা থেকে রাফিন শেখ ও শাহারিয়ার নাজিমকে গ্রেপ্তার করে। এরপর গত মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানা এলাকা থেকে সাগর ফকিরকে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানার পুলিশ।
প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে শহীদ মিনার এলাকায় রাকিবকে খুন: পুলিশ
সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে সিটিটিসির একটি দল গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সালাহউদ্দিন সাগর ওরফে সাকাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল ও চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সালাহউদ্দিন সাগর ওরফে সাকা খুলনা জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে খুনিদের মূল হোতা। তাঁর নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন ভাড়াটে খুনি কাজ করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে শহীদ মিনার এলাকায় রাকিবকে খুন: পুলিশ
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় তরুণ রাকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করেছে পরিবার। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় সাত থেকে আটজন অংশ নিয়েছিলেন। একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে হামলাকারীদের ভাড়া করে ঢাকায় আনা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে সাত–আটজন অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
গত রোববার রাতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে রাকিবুল ইসলাম নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সোয়া ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাকিব। এ সময় কয়েকজন যুবক এসে তাঁকে লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি করে এবং পরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন হামলাকারীদের একজনকে চাপাতিসহ ধরে শাহবাগ থানায় দেন।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় রাকিবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। চিকিৎসকেরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। পরে রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান,
নিহত রাকিব ভোলা সদর উপজেলার চৌমুহনী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা তারিকুল ইসলাম খোকন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের কর্মচারী। পরিবার নিয়ে রাজধানীর নিমতলীর নাজিম উদ্দিন রোড এলাকায় থাকেন তিনি। রাকিব বোরহান উদ্দিন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।